কালচারাল ফ্যাসিস্ট শব্দটি আমরা ব্যবহার করি সেইসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য যারা সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিতার আড়ালে একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দিতে চায়। এরা মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করে, নির্দিষ্ট মতাদর্শকে রাষ্ট্রের একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমাদের কাজ হলো—এই কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নাম, কাজ ও কার্যকলাপ নথিভুক্ত করা, যাতে সমাজ প্রকৃত সত্য জানতে পারে।
এই কালচারাল ফ্যাসিস্টরা শাহবাগ আন্দোলনের নামে দেশকে বিভাজিত করেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করেছে এবং শাহবাগ গণআন্দোলনের নামে মব তৈরি করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে টার্গেট করে জুডিশিয়াল হত্যা করেছে।
কালচারাল ফ্যাসিস্টরা কেবল মতাদর্শিক দালালই নয় তারা সৈরাচার হাসিনার ডাকপিয়ন হিসেবে কাজ করেছে। এরা সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মিডিয়ার আড়ালে স্বৈরশাসক টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। ফলে, এরা সৈরাচারের সহযোগী হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।
আমাদের কাজ হলো এই কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নাম, তাদের লেখা, বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ড দলিল আকারে সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুঝতে পারে কিভাবে সংস্কৃতির আড়ালে একনায়কতন্ত্র টিকিয়ে রাখা হয়েছিল।
শাহবাগ বিরোধী ঐক্য একটি অরাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি স্তরের সচেতন মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃপ্ত কণ্ঠে একত্রিত হয়েছেন। এই ঐক্য এমন এক চেতনার প্রতিফলন, যা ’৪৭-এর স্বাধীনতার স্বপ্ন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, ’৭৫-এর স্বৈরাচারী শেখ মুজিবের পতন, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ৫ই আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লবকে ধারণ করে।
২০০৭ সালের লগি-বৈঠার রক্তাক্ত তাণ্ডব, ২০০৯ সালের পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র আলেম-ওলামার ওপর গণহত্যা—এসব ভয়াবহ ঘটনার দায়ভার শুধু খুনি ও স্বৈরাচারী খুনী হাসিনার নয়, বরং তাদের দোসর বাম, শাহবাগী ও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টদেরও, যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রেসক্রিপশনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় অপকৌশল রচনা করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বাকশালী মুজিব থেকে শুরু করে তার কুলাঙ্গার কন্যা খুনি হাসিনা পর্যন্ত এই ধারাবাহিক দমন-নিপীড়নের বৈধতা ও পটভূমি তৈরিতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। সেই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী কণ্ঠে উচ্চারণ করতেই শাহবাগ বিরোধী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আপামর ছাত্র-জনতার এক মাসব্যাপী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম রক্তস্নাত ত্যাগ ও শত শত শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে অবশেষে ৫ই আগস্টে এক মহাগণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কিন্তু সংগ্রামের এখানেই শেষ নয়।
যতদিন হিন্দুত্ববাদীদের দালাল বাম, শাহবাগী, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্ট কিংবা নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্মের আশঙ্কা থাকবে, ততদিন শাহবাগ বিরোধী ঐক্য অবিচল সংকল্পে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে, আত্মত্যাগের অগ্নিশিখায়। আমাদের শপথ, আমাদের অঙ্গীকার এই মাটি ও মানুষের জন্য ন্যায়, সত্য এবং স্বাধীনতার লড়াই চলবেই, ইনশাআল্লাহ।